প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আসলে কি ?

admin

Administrator
Staff member
Jul 14, 2020
50
6
8
মানুষ পরস্পরের সাথে ভাব বিনিময় করার জন্য যে সকল ধ্বনি এবং তার লিখিতরুপ ব্যবহার করে থাকে তাকেই আমরা ল্যাঙ্গুয়েজে বলে থাকি। মানুষের মধ্যেকার ব্যবহৃত এই সব লিখিত রুপ কে প্রকাশ করার জন্য আমাদের কিছু সংকেত এবং রুলস অনুসরণ করতে হয়।


দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার যাতে আমাদের এই ভাষা অনুযায়ী কাজ করতে পারে তার জন্য কিছু প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। প্রোগ্রাম তৈরির জন্য ব্যবহৃত রুলস ও সংকেতগুলোকেই একত্রে বলা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।


এক কথায় বলতে গেলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর সংজ্ঞা দাড়ায়, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হলো একটি ফরমাল ল্যাঙ্গুয়েজ যেটা অনেকগুলো ভোকাবুলারি এবং রুলস নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে যা কম্পিউটারকে নির্দেশ দিয়ে থাকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করার জন্য।


ব্যবহার:
তথ্য সুবিন্যস্ত করণ এবং অ্যালগোরিদম সমূহকে নির্ভূলভাবে প্রকাশ করতে প্রোগ্রাম ভাষা ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রথম যখন কম্পিউটার আবিষ্কার হয় তখন শুধুমাত্র ০ এবং ১ দিয়ে প্রোগ্রাম লিখা হতো। এটিকে সাধারণত মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হতো। কিন্তু মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম করা অত্যন্ত জটিল এবং সময় সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা প্রোগ্রামিং কে সহজ করার জন্য আরো নতুন নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ উদ্ভাবন করেন।


প্রকারভেদ:
১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত শ’কয়েক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সকল ভাষাকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে পাঁচটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছে।

১.প্রথম প্রজন্মের ভাষা: মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯৪৫)
২.দ্বিতীয় প্রজন্মের ভাষা: অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯৫০)
৩.তৃতীয় প্রজন্মের ভাষা: হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯৬০)
৪.চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা: ভেরি হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯৭০)
৫.পঞ্চম প্রজন্মের ভাষা: ন্যাচরাল ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯৮০)


কয়েকটি হাই লেভেল এর ভাষার সাথে পরিচিত হওয়া যাক;

১. C
২. C++
৩. Visual basic
৪. Java
৫. Oracle
৬. Analog
৭. Python


কম্পিউটার একমাত্র মেশিনের ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা বুঝতে নারে না বলে অন্য ভাষা কে সবসময়ই আগে মেশিন ভাষায় পরিণত করে নিতে হয় । এর জন্য অনুবাদক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় । এরা তিন ধরনের হয়ে থাকে।


১. কম্পাইলার
২. ইন্টারপ্রেটার
৩. অ্যাসেম্বলার


প্রোগ্রাম এর ডিজাইন:
প্রোগ্রাম এর ডিজাইন মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে অন্তর্ভুক্ত ।

১. ইনপুট ডিজাইন
২. আউটপুট ডিজাইন
৩. ইনপুট ও আউটপুট এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এর ডিজাইন।


প্রোগ্রাম এর ভুলসমূহ:

প্রোগাম তৈরির সময় প্রোগ্রামে কিছু না কিছু ভুল থেকেই যায়, একে Bugs বলে। এটি তিন ধরণের হতে পারে।

১. সিনটেক্সজনিত ভুল (ভাষার ব্যাকরণগত ভুল যেমন বানান, দাড়ি, কমা ইত্যাদি তে ভুল) ।

২.লজিকজনিত ভুল (যুক্তিগত ভুল যেমন A<B এর জায়গায় A>B লেখার ফলে যেই ভুল হয়) । এই ভুল সংশোধনে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাকে প্রোগ্রাম টেস্টিং বলে।

৩.রান টাইম ও এক্সিকিউশন টাইমজনিত ভুল (কম্পিউটার কে ভুল ডেটা দিলে এই এরর দেখায় যেমন কোনো সংখ্যা কে ০ দিয়ে ভাগ করা) ।



প্রোগ্রাম এর সমস্যা সমাধান:

এইক্ষেত্রে ধাপে ধাপে একটি সমস্যা কে সময় নিয়ে সমাধান করতে হয় । একে অ্যালগোরিদম বলে। কম্পিউটার নিজে চিন্তা করতে পারে না বলেই অ্যালগোরিদম এর মাধ্যমে পরপর কি করতে হবে সেই নির্দেশ দিতে হয় । এক্ষেত্রে অ্যালগোরিদম হাই লেভেল ভাষায়অনুবাদ করে ইনপুট দিতে হয় ।