নেটওয়ার্কিং ও এর প্রাথমিক ধারণা

admin

Administrator
Staff member
Jul 14, 2020
50
6
8
নেটওয়ার্কিং ও এর প্রাথমিক ধারণা.jpg
প্রযুক্তির যেই কয়টি অবদান আপনাকে অবিভুত করবে তার মধ্যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অন্যতম। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো বিভিন্ন কম্পিউটার সমূহ কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বারা একসঙ্গে সংযুক্ত থাকার নাম। কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য একটি ইন্টারফেস কার্ড ব্যবহার করা হয় একে বলা হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বা নিক(NIC)।


একটু পিছনের দিকে এসে জেনে নিই এর ইতিহাস সম্পর্কে, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর সূচনা হয়েছিল ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে "অর্পানেট" দিয়ে যার প্রথম প্রস্তাবনা করেছিলেন "লিওনার্ড ক্লিনরক" ১৯৬১ সালে তার একটি গবেষণাপত্রে। এরপর "ডোনাল্ড ডেভিস "১৯৬৫ সালে "প্যাকেট" শব্দটি ব্যবহার করেন, কীভাবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে ডেটা সমূহ বা তথ্য এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে আদান প্রদান করা হয় এটির ব্যাখা দেয়ার জন্য।


কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর উদ্দেশ্য:

  • হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার: এক্ষেত্রে অফিসে দশটি কম্পিউটার এর জন্য দশটি প্রিন্টার ব্যবহার না করে একটি প্রিন্টার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দশটি কম্পিউটারে শেয়ার করা।
  • সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ার: অফিসের দশটি কম্পিউটার এর জন্য দশটি সফটওয়্যার না কিনে একটি নেটওয়ার্ক দিয়েই সবগুলো কম্পিউটারে শেয়ার করা, এতে করে খরচ কমানো সম্ভব ।
  • ইনফরমেশন রিসোর্স শেয়ার: একটি প্রতিষ্ঠান কাছাকাছি বা দূরবর্তী অঞ্চলে থেকেও একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার এর মাধ্যমে ইনফরমেশন রিসোর্স শেয়ার এর মাধ্যমে দ্রুত সময়ে ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিতে পারে। এতে যাতায়াত খরচ কমানো এবং সময় অপচয় রোধ দুই ক্ষেত্রেই লাভবান হওয়া যায় ।


নেটওয়ার্ক এর প্রকারভেদ:

মালিকানা অনুসারে :

১.প্রাইভেট নেটওয়ার্ক: এই ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মালিকাধীন থাকে, এই নেটওয়ার্ক যে কেউ চাইলেই ব্যবহার করতে পারে না। এই নেটওয়ার্কে তথ্য আদান প্রদান সহজ এবং নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নেই বললেই চলে।


২.পাবলিক নেটওয়ার্ক: এই ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মালিকাধীন থাকে না। যে কেউ এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে। তবে এইক্ষেত্রে কখনও কখনও ব্যবহারকারীকে কিছু মূল্য পরিশোধ করতে হয় ।

নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে:

১. সেন্টালাইজড নেটওয়ার্ক: এই নেটওয়ার্ক একটি মেইন কম্পিউটার এবং কিছু টার্মিনাল নিয়ে গঠিত। এই ক্ষেত্রে সকল প্রসেসিং এবং নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ এর কাজ করে থাকে মেইন কম্পিউটারটি এবং টার্মিনাল হলো অন্য সকল হার্ডওয়্যার ( মনিটর কিবোর্ড ) যা মেইন কম্পিউটার এর শাখা হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে মেইন কম্পিউটার এর সার্ভার টি অনেক শক্তিশালী হয় ।


২. ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক: এই নেটওয়ার্ক হলো পরস্পর সংযুক্ত ওয়ার্কস্টেশন, বিভিন্ন শেয়ার্ড স্টোরেজ ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট আউটপুট ডিভাইস নিয়ে তৈরী । ওয়ার্কস্টেশন গুলো নিজস্ব সফটওয়্যার, ডেটা ও প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করে লোকাল কাজ গুলো করতে পারে। তাছাড়া এই ওয়ার্কস্টেশন এর সাহায্যে এর সাথে যুক্ত থাকা সার্ভার কম্পিউটার এর সার্ভিস ও গ্রহণ করতে পারে।


৩. হাইব্রিড নেটওয়ার্ক: সেন্ট্রালাইজড এবং ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক এর সংমিশ্রণে এই হাইব্রিড নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এই নেটওয়ার্ক বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় ।


ভৌগলিক বিস্তৃতি অনুসারে:

১.পারসোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক(PAN) : কোনো ব্যক্তির নিকটে থাকা বিভিন্ন ইনফরমেশন টেকনোলজি ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ, পিডিএ, মোবাইল, ট্যাবলেট, প্রিন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান এর নেটওয়ার্ক সিস্টেমই হলো PAN। এর পরিসীমা 10 meter এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।


২.লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) : সাধারণত 10km বা তার কম এরিয়া যেমন স্কুল , কলেজ ক্যাম্পাস বা বড় কোনো অফিস বিল্ডিং এর বেশ কিছু কম্পিউটার টার্মিনাল বা কোনো ব্যয়বহুল পেরিফেরাল ডিভাইস সংযুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক তৈরা করা হয় সেটাই হলো LAN।


৩.মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN): যখন কোনো একটি শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিভিন্ন কম্পিউটার গুলোকে নিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় তাকেই বলা হয় MAN। এর ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয় কোনো মডেম বা টেলিফোন লাইন । এর পরিসীমা শহরভিত্তিক হয় ।


৪. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN): বিভিন্ন ভৌগলিক দুরত্বে অবস্থিত কিছু LAN বা MAN একত্রে সংযোগ স্থাপন করে নতুন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় সেটাই WAN। এক্ষেত্রে একটি দেশের এক শহরের সাথে অন্যান্য শহরের নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করা হয় । এক্ষেত্রে বর্তমানে ট্রান্সমিশন হিসেবে ফাইবার অপটিক ক্যাবল বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে । WAN এর মূলত তিনটি অংশ; রাউডার, WAN কানেকশন এবং সিকিউরিটি পলেসি। উদাহরণ স্বরূপ আমরা ইন্টারনেটকেই WAN নেটওয়ার্ক বলতে পারি।