ক্লাউড স্টোরেজ প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায়

admin

Administrator
Staff member
Jul 14, 2020
50
6
8
cloud storage.jpg
প্রযুক্তির উৎকর্ষতা দিন দিন বাড়ছে, এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে এবং তার যোগান মিটাতে বাজারে আসছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির মাঝে যেই নামটি কম বেশি সবাই শুনে থাকবেন সেটি হলো ক্লাউড কম্পিউটিং। এমন অনেক আইটি কোম্পানি আছে যারা ইদানিং ক্লাউড কম্পিউটিংব্যাপক আকারে ব্যবহার করছে যাদের মধ্যে অন্যতম হলো Google Drive, Apple iCloud, Dropbox, Slack ইত্যাদি। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন ইদানিং সব কোম্পানিগুলো ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রতি ঝুঁকছে, এবং এর কারণে প্রচুর চাহিদা এবং ডাটার সিকিউরিটি বাড়ছে বহুগুনে।


ক্লাউড কম্পিউটিং এর এই বিষয় নিয়ে আমরা দুটো পর্বে আলোচনা করবো। আজ শুরু করছি প্রথম পর্ব। চলুন আজকে আমরা জেনে নিই ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যাপারে। মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে একটি ইন্টারনেট সেবা যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে কম্পিউটিং এর চাহিদা কে পূরণ করে। আরেকটু খোলোখুলি ভাবে বললে এর সংজ্ঞা দাঁড়ায় ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স (হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়ার, সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক) যেগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা এবং সেবা গ্রহণ করা হয়।


ক্লাউড কম্পিউটিং এর নামকরণ যেভাবে হয়েছে ক্লাউড অর্থ মেঘ। কিন্তু এখানে ক্লাউড শব্দটি ইন্টারনেটের রুপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আকাশে সর্বত্র মেঘ যেভাবে ছড়িয়ে আছে ঠিক সেভাবেই ইন্টারনেটও সর্বত্র জালের মত ছড়িয়ে আছে। ইন্টারনেট কে এখানে মেঘের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে সার্ভিস দাতার তত্ত্বাবধানে সকল কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার থাকবে। ক্রেতা শুধুমাত্র অল্প খরচে একটি ডিভাইস এর মাধ্যমে সার্ভিসদাতার সার্ভার বা কম্পিউটার এর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কম্পিউটিং এর কাজ করে থাকে। এখানে যেহেতু সার্ভার বা মূল কম্পিউটার ক্রেতার কাছ থেকে অনেক দূরে থাকে সেহেতু সেবা প্রদানকারীর অবকাঠামো রিসোর্স সমূহ ইত্যাদি ক্রেতার কাছে অনেকটা অদৃশ্যমান। এক্ষেত্রে ক্রেতার কাছে এই সেবা অনেকটা কল্পনার রাজ্যে মেঘ পাওয়ায় মতন। এর এই ধারণা থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং শব্দটি এসেছে। সহজ কথায় ক্লাউড কম্পিউটিং এর মূল বিষয় হচ্ছে ক্রেতা ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে তারবিহীন বা তারযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ ভাড়া করে কম্পিউটিং কাজ করা।


ক্লাউড কম্পিউটিং এর ইতিহাস মূলত শুরু হয়েছিল ১৯৬০ সালের দিক থেকে। ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে। ২০১০ এ The Rackspace এবং NASA যুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস ব্যবহার শুরু করে আর সেখান থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং জন সাধাণের কাছে পৌছতে থাকে। যখন এটি বাড়ির মধ্যে ব্যবহারের কথা আসে তখন লোকাল কম্পিউটিং এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মধ্যবর্তী লাইনগুলি কিছুটা আলাদা ভাবে কাজ করে।


পরবর্তী পর্বে আমরা এর সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো। সে পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন ধন্যবাদ...